Friday, 7 October 2016




বামন  

আজ অক্ষর উড়েছে সারাদিন নাগালে আসে নি ঝিল ।তার ছায়া
ফ্লুরোসেন্ট হয়ে বর্শা বিঁধেছে ।চাঁদ খুলে আসে প্রতিদিন ।থালার আতপ
একা ফুটে থাকে ।সারবাঁধা লাইন কাগজে মেলছে পাখনার ঘোর ।
ওড়াটা গুটিয়ে আছে শুধু ছাতার ছায়ায় । 
নাকের দুপাশ বেয়ে লাটাইয়ের টান টান ঘুম ।হিজড়ে নাচের ভিড়
যদি না ই থাকি কাকতাড়ুয়ার দেশে!শিকারির হাত,ফাতনার টানে
ভেসে থাকা কাগজ খবর হচ্ছে ।রোজ একফালি চাঁদ
বিক্রির কথা ভাবি দুয়োরাণীদের ঘরে ।আকাশ ভর্তি ছোটাছুটি,খোঁজ
তেল-কালি মাখা নোনা হাত ছোটো হয় চাঁদে ।

জাগরণ

একপালা কীর্তন ছুড়ে দিলে-গড়িয়ে গড়িয়ে খায়
৭ ও ছয়ের মাঝে আটখানা গ্রাম। বাঁশের তীক্ষ্ণতায়
নাড়িকাটা কানাই বলাই- উঠোনেই ধড়ফড় করে। তবু
আজ বোষ্টমদের অধিবাস... কাঁচা ঘিয়ের গন্ধ
আলো হয়ে থাকে। শুধু ৮ খানা গ্রামে নিশুতি পালন।
কাস্তের মতো চাঁদ ও তারার মিল হলে- কাকভোর
স্নান সেরে আসে। এয়োতিরা মালসা সাজিয়ে রেখে
অঙ্কের ভুলে ,হাই তোলে খুব ।

প্রস্থান
 
তালাশ ছুঁয়েছে পাটক্ষেত ।চিরুনির খোঁজ ঘোলাজলে...ব-দ্বীপের চুড়োয়
ফানুসের ফুরিয়ে যাওয়া দ্যাখে অবাক পাখিরা ।
ঢেঁড়াচিহ্ন – গড়-হাজিরার দলে ।রাজহাঁস চুমুক দিচ্ছে নামতায়
পেণ্ডুলাম নেই...ফারাক শুধু শূন্য শূন্যের ।আমি তার চাবি খুলে
নিজেকে সেলাই করে রাখি – সূঁচের যাওয়া ও আসাতে
শামুক যেভাবে থাকে ।নিরুদ্দেশ ছাপা হলে ঘর কি ফিরেছে !
প্রতিদিন চোখের আড়াল ভেসে ওঠে...
হাঁটা পথ যুধিষ্ঠির হয় ।

 
স্বাদ

চাঁদ উল্টে রয়েছে... তরমুজ যেভাবে কুয়োয় খুঁজে পায় কৌশল
কলাবাগানের ওপাশ, ভিক্ষায় ভরা। গত জন্মের। লাল হয়ে ওঠা আঁচ
আর ভুল ফুঁ দেওয়া নিমের পাচন— গলায় নামছে...নেশা
বাঁকা মুঠোয় ভর্তি ঘি। আঙুল উঠছে না। অসাড়..
পাখির নিরুদ্দেশ-ফেলা ম্যাপ, কেউই পায় না
শুধু উকুনের যাতায়াত থাকে... গর্ত ফেলে রাখা জ্যোৎস্নায়
হামাগুঁড়ি ভেজা।

খড়গ
 
আকাশ উড়ছে বলে ফানুসও পা রাখছে না
ঘুড়ির কি জানা আছে সুতোর কারুকাজ! তাঁতিবউ জানে
এইসব বেলুন-কাহিনি । পূর্ণিমা দেখে কি এসব !
গোল হয়ে ওঠা থালা....আতপের বৃষ্টি খেয়েছে কাল
সারারাত । আয়নায় ঝুলে থাকা পা মাটিতে পড়ে না
সে গরল ১৮ পংক্তির। বকুলের ঘ্রাণে হাতছানি...
জাত খোয়ানোর ভয়ে তেঁতুলের ডাক। সুজন তো কেউ নয়
হাঁড়ি-কাঠ বোঝে। শুধু একচক্ষুর শাপ-মাথার ওপর নেমে আসে ।


ভেলা
 
কামড় চেপে রাখা দাঁতে লুটোপুটি ।বাকি অর্ধেক মনেই পড়ে না
আধ-খাওয়াটাই স্বর্গীয় এখন । ফুটো হয়ে আসা ঘ্রাণে
আকাশ হই । ফাঁকা বালিশেরা চিবিয়ে নেয় রোজ ।হলুদ গ্লাসের রঙে
উথলিয়ে ।বিছানায় চাঁদ ভেসে যায় বেহুলার সাথে ।অথবা বেয়নেট
কাস্তের মতো গলায় জড়িয়ে ।অথবা কড়ির সাপ গুঁড়ো গুঁড়ো
খেলাঘর পাতে...জল-নূপুরের মোহে ।হাতের মুঠোয় দুলে ওঠে
অশোক-স্তম্ভ ঘষা সিকি ও আধুলি ।
 

মোম

হা পিত্যেশ বসে থাকে বিকেল ও রাতের ধুনুচির টান
গালের দুপাশ নিজেই পুড়েছে ।৭ টি ঘোড়ার ক্ষুর
ঝোপ-জংলার লাফ ডেকে ওঠে বাদামের খোসাটি ছাড়িয়ে
মগ্ন ছুরিকায় ।গলার নিচের ভাঁজ আড়াআড়ি ।শূন্য
জন্মান্তর প্রতিদিন ।প্রতিদিন আরক,ফরম্যালিনে
রসাতল খোঁজা...নেশা ।সাঁতার ডোবানো ছিপ ২ভাঁজ
হাঁটু ও মাথার গরাদ আটকে শিকে ।তোলপাড় খুলছে না
দরজা মাথায় ছুট আগুন হাওয়ায় ।তবু
এঁকে যাও কুষ্ঠের নাম ।ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়া ।

No comments:

Post a Comment